জন্ম নিবন্ধন সংশোধনে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস । Jonmo nibondhon
বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জন্ম নিবন্ধন একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। শিশু বয়সে স্কুলে ভর্তি থেকে শুরু করে অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজন পড়ে জন্ম নিবন্ধন সনদ এর। কিন্তু এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট এ যদি কোনো প্রকারের ভুল তথ্য থেকে থাকে তাহলে এর জন্য চরম বিড়ম্বনার স্বীকার হতে হয়। তাই জন্ম নিবন্ধন এর মতো একটি সেন্সিটিভ বিষয়ে কোনো ভুল তথ্য থাকা চলবে না।যদি কোনো কারণে জন্ম নিবন্ধনে ভুল তথ্য থাকে, তাহলে স্কুল থেকে শুরু করে প্রায় সকল ক্ষেত্রেই সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।তবে একান্তই যদি জন্ম নিবন্ধনে কোন প্রকার ভুল তথ্য চলে আসে, তখন ই প্রয়োজন পড়ে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন এর। আর জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের প্রয়োজন হবে।আজকের পোস্টে আমরা জানবো জন্ম নিবন্ধন সংশোধনে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস সম্পর্কে । চলুন শুরু করা যাক।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধনে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস ?
আপনি আপনার জন্ম নিবন্ধনে কি ধরনের তথ্য সংশোধন করতে চান তার উপর নির্ভর করবে আপনার কি ধরনের কাগজপত্রের প্রয়োজন পড়বে।
যদি আপনার জন্ম নিবন্ধনে শুধু আপনার নিজের নাম পরিবর্তন করতে হয় তাহলে যেসকল ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন পড়বেঃ
১. টিকা কার্ডের কপি (বয়স কম হলে)

টিকা কার্ড (Vaccination Card) বা টিকাদান রেকর্ড জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যখন আবেদনকারীর বয়স কম (যেমন: শিশু বা নাবালক)। এই কার্ডটিতে শিশুর জন্মপরবর্তী টিকাদানের তথ্য লিখা থাকবে এবং এছাড়াও এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রমাণপত্র হিসেবে কাজ করে।
- প্রয়োজনীয়তা: টিকা কার্ড একটি শিশুর জন্মের প্রমাণপত্র হিসেবে ব্যাবহার করা যেতে পারে।টিকা কার্ড প্রমাণ করে যে শিশুটির জন্ম হয়েছে এবং সে একটি নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে কি কি টিকা নিয়েছে।
- যেখান থেকে সংগ্রহ করা যাবে: শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক, বা হাসপাতাল থেকে টিকা কার্ড পাওয়া যাবে।
- আকার এবং ধরন: সাধারণত একটি কার্ড আকারে বা রেকর্ড বই আকারে থাকে।
২. জাতীয় পরিচয় পত্র (NID)
জাতীয় পরিচয় পত্র বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট। এটি আবেদনকারীর পরিচয় ও নাগরিকত্ব প্রমাণ করে।
- প্রয়োজনীয়তা: জন্ম নিবন্ধন সংশোধন বা নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে এটি আবেদনকারীর পরিচয় ও বয়সের দালিলিক প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।
- প্রাপ্তিস্থান: নির্বাচন কমিশন কতৃর্ক জারি করা হয়, স্থানীয় নির্বাচন অফিস কিংবা অনলাইনেও নিজের আইডি কার্ড ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।
- ফরম্যাট: একটি প্লাস্টিক কার্ড বা স্মার্ট কার্ড আকারে বর্তমানে প্রচলিত।
৩. শিক্ষাগত যোগ্যতা সনদ
শিক্ষাগত যোগ্যতা সনদ (Educational Qualification Certificate) জন্ম নিবন্ধন সংশোধনে আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রমাণ করে। এটি জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে কাজে লাগে যদি আবেদনকারীর বয়স বা জন্ম তারিখ সংশোধনের প্রয়োজন হয়।
- ব্যবহার: এটি মূলত ব্যাবহার করা হয় আবেদনকারীর নাম কিংবা জন্ম সাল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে। যেমন আমার নাম পরিবর্তনের সময় আমার SSC এবং HSC পরীক্ষার সার্টিফিকেট সাবমিট করতে হয়েছিলো । তবে খেয়াল রাখতে হবে যেনো আপনি যেই তথ্য পরিবর্তন করতে চান, তা যেনো আপনার শিক্ষাগত সার্টিফিকেটে সঠিকভাবে থাকে।যেমন: আপনার জন্ম সনদে আপনার নাম করিম, কিন্তু আসলে আপনার নাম “রহিম”, তাহলে আপনি যদি আপনার জন্ম সনদের করিম নাম পরিবর্তন করে “রহিম” দিতে চান, তাহলে আপনার শিক্ষাগত সার্টিফিকেটে অবশ্যই আপনার নাম “রহিম” থাকতে হবে। অন্যথায় আপনি প্রমাণ করতে পারবেন না যে আপনার নাম আসলেই “রহিম”।
- যেখানে পাওয়া যাবে: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল, কলেজ, বা মাদ্রাসা) থেকে পাওয়া যায়।নিরনির্দিষ্ট প্র
- আকার: সাধারণত একটি সার্টিফিকেট বা মার্কশিট আকারে থাকে।
জন্ম সনদে পিতা মাতার নাম পরিবর্তনের জন্য যেসকল ডকুমেন্টস প্রয়োজন :
১. অনলাইন জন্ম নিবন্ধন
- আবেদনকারীর অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ।
- পিতা ও মাতার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ। যদি তাদের জন্ম নিবন্ধন করা থাকে, তাহলে তাদের অনলাইন সনদ লাগবে।
২. পিতা মাতার NID এবং জন্ম সনদ
- পিতা ও মাতার জাতীয় পরিচয় পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন।
- যদি পিতা বা মাতার NID বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন না থাকে, তবে অন্য কোনো সরকারি পরিচয়পত্র যেমন পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩. অন্যান্য ডকুমেন্টস
- পিতা বা মাতার নাম পরিবর্তনের স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে শিক্ষাগত সনদ, পাসপোর্ট, ইত্যাদি। যদি পিতা বা মাতার নাম পূর্বে অন্য কোনো সনদে অন্যভাবে লেখা থাকে, তবে সেই সনদগুললোকে নাম পরিবর্তনের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।মোট কথা ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে থাকা ব্যাক্তিকে যেকোনো ভাবে ডকুমেন্টস দিয়ে সন্তষ্ট করতে হবে, যা দিয়ে তিনি বুঝতে পারেন যে আপনার আবেদনটি যৌক্তিক এবকং শতভাগ সত্য।
৪. মৃত ব্যাক্তির ক্ষেত্রে:
- পিতা বা মাতা মৃত হলে তাদের মৃত্যু সনদ প্রয়োজন হবে।
৫. আদালতের আদেশ (প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে):
- যদি নামের পরিবর্তনটি আদালতের মাধ্যমে হয়ে থাকে, তবে আদালতের আদেশনামা লাগবে। যদি কোনো কারণে আদালতের মাধ্যমে নাম পরিবর্তন করতে হয়, তবে আদালতের আদেশনামা অবশ্যই দাখিল করতে হবে।
৬. হলফনামা:
- নাম পরিবর্তনের কারণ উল্লেখ করে একটি হলফনামা দাখিল করতে হতে পারে। হলফনামাতে নাম পরিবর্তনের কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
জন্ম সনদে ঠিকানা পরিবর্তন করার জন্য যেসকল ডকুমেন্টস প্রয়োজনঃ
অত্যাবশ্যকীয় ডকুমেন্টস:
নতুন ঠিকানার প্রমাণপত্র (যেকোনো একটি):
- ইউটিলিটি বিল: বিদ্যুৎ/গ্যাস/ওয়াটার বিলের কপি ।অবশ্যই খেয়াল রাখবেন বিল গুলো যেনো রিসেন্ট বা সাম্প্রতিক সময়ের হয়।উদহারন স্বরুপ সর্বশেষ ৩ মাসের বিদ্যুৎ বা গ্যাস বিল।
- হোল্ডিং ট্যাক্স রশিদ: বাসার হোল্ডিং ট্যাক্স, বা খাজনা আদায়ের রশিদ।
- ওয়ার্ড কমিশনারের সার্টিফিকেট: নতুন ঠিকানার ওয়ার্ড কমিশনার বা ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরযুক্ত সার্টিফিকেট।
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি):
- আবেদনকারীর অথবা জন্মসনদের মালিকের (নাবালক হলে পিতা/মাতার) সত্যায়িত এনআইডি কপি।
অ্যাফিডেভিট :
- নোটারি পাবলিক বা ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা সত্যায়িত একটি অ্যাফিডেভিট যাতে উল্লেখ থাকবে:
- পুরানো ঠিকানা ও সংশোধিত নতুন ঠিকানা।
- ঠিকানা পরিবর্তনের কারণ (যেমন: স্থায়ী বাসস্থান পরিবর্তন)।
- কোনো আইনগত জটিলতা নেই এর ঘোষণা।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ঃ
- সকল কাগজপত্র সত্যায়িত হতে হবে। সকল ডকুমেন্টের ফটোকপি গেজেটেড অফিসার দ্বারা সত্যায়িত করতে হবে।
- ক্ষেত্রবিশেষে, অতিরিক্ত কাগজপত্র লাগতে পারে। প্রয়োজনে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা কার্যালয় থেকে আরও তথ
কেন এই ডকুমেন্টস গুরুত্বপূর্ণ?
- প্রমাণ হিসেবে: এই ডকুমেন্টস এ জন্ম তারিখ, বয়স, এবং পরিচয় উল্লেখ থাকে যা আপনার আবেদনের সত্যতা প্রমাণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- আইনি ভিত্তি: জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের ক্ষেত্রে এগুলো আইনি প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
- সহজ প্রক্রিয়া: সঠিক ডকুমেন্টস থাকলে সংশোধনের প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজ হয়,অহেতুক বিড়ম্বনার স্বীকার হতে হয় না।
কিছু প্রয়োজনীয় টিপস
- অরিজিনাল ডকুমেন্টস যথাযথভাবে সংরক্ষণ করুন।
- ডকুমেন্টসগুলো যেন আপ টু ডেট এবং সঠিক তথ্য বহন করে সেদিকে খেয়াল রাখুন।
- কোনো ডকুমেন্ট না থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন।
উপরোক্ত ডকুমেন্টস গুলো সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার মাধ্যমে আপনি জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের প্রক্রিয়া সহজে সম্পন্ন করতে পারবেন।