অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করুন ২০২৫

ঘরে বসেই অনলাইনে নিজে নিজে কিভাবে আপনার শিশুর জন্য নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করতে পারবেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন এখানে।

জন্ম নিবন্ধন বাংলাদেশের প্রতিটি শিশুর জন্য নাগরিক অধিকার। এই সনদটির দ্বারা একটি শিশু দেশের নাগরিকত্বের সুযোগ সুবিধা ভোগ করে থাকে। 

বর্তমানে শিশুর জন্মগ্রহণের ৪৫ দিনের মধ্যেই নতুন জন্ম নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব নিজের শিশুর জন্ম নিবন্ধন করে ফেলতে হবে। 

যেহেতু অনলাইনে নিজে নিজেই নতুন জন্ম নিবন্ধন এর আবেদন করা যায়, তাই এ সম্পর্কে জেনে আমরা আমাদের ভোগান্তি কমাতে পারি। আবার অনলাইনে আবেদন করলে কম খরচে এবং দ্রুততম সময়ে নিবন্ধন সনদ হাতে পাওয়া সম্ভব।

তাই অনলাইন জন্ম নিবন্ধন আবেদন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, নির্ধারিত ফি -এর পরিমাণ ও জন্ম সনদ পেতে কতদিন লাগে সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই লেখাটি সম্পূর্ণ পড়ে নিন।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন

অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করতে, bdris.gov.bd/br/application – এই লিংকে যান। তারপর নিবন্ধনের ঠিকানা নির্বাচন করে আবেদনকারীর যাবতীয় তথ্যাবলী পূরন করুন। এবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করে আবেদনপত্রটি রিভিউ করুন। সর্বশেষে, মোবাইলে ওটিপি ভেরিফাই করে সাবমিট করে দিন।

আবেদনটি সাবমিট করার পর একটি জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরম pdf পাবেন। সেটি প্রিন্ট করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। 

জন্ম নিবন্ধনের জন্য আপনি চাইলে অনলাইনেও ফি পরিশোধ করতে পারে, অথবা সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েও আবেদনপত্রের সাথে জমা দিয়ে আসতে পারেন।

সবকিছু সঠিকভাবে সম্পাদন করতে পারলে এক সপ্তাহের মধ্যেই আপনার জন্ম সনদটি সংগ্রহ করতে পারবেন।

আরও পড়ুনঃ জন্ম নিবন্ধন ইংরেজি করার নিয়ম ২০২৪

জন্ম নিবন্ধন করতে যা যা কাগজপত্র লাগে

নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করতে প্রয়োজন হয়- শিশুর টিকা কার্ড, পিতা-মাতার জন্ম সনদ, শিশুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রত্যয়ন পত্র, কর পরিশোধের রশিদ ইত্যাদি।

মূলত শিশুর বয়সের তারতম্যের উপর ভিত্তি করে কম-বেশি ডকুমেন্টস জমা দিতে হয়। অনলাইনে আবেদন করলে এসকল ডকুমেন্টস এর ছবি বা স্ক্যান কপি জমা দিতে হয়।

তারপর আবারও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে বা সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে হার্ড কপি জমা দিতে হতে পারে। অথবা শুধুমাত্র আবেদনপত্রের কপি জমা দিলেও হবে।

আরও পড়ুনঃ নতুন জন্ম নিবন্ধন করতে কি কি লাগে ২০২৪

যাইহোক, ভিন্ন বয়সী মানুষদের জন্ম নিবন্ধন করতে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস এর তালিকা নিচে উল্লেখ করা হলো:

বয়স: ০-৪৫ দিন হলে

  • শিশুর ইপিআই (EPI) টিকা কার্ড (টিকা কার্ড না থাকলে হাসপাতালের প্রত্যয়ন পত্র)।
  • নিবন্ধনকারীর পিতা-মাতার ডিজিটাল জন্ম সনদের ফটোকপি।
  • শিশুর ঠিকানার চলতি হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের রশিদ।
  • আবেদনকারীর একটি সচল মোবাইল নাম্বার।

বয়স: ৪৬ দিন থেকে ৫ বছর হলে

  • শিশুর ইপিআই (EPI) টিকা কার্ড (টিকা কার্ড না থাকলে হাসপাতালের প্রত্যয়ন পত্র)।
  • শিশুর ঠিকানার চলতি হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের রশিদ।
  • নিবন্ধনকারীর পিতা-মাতার ডিজিটাল জন্ম সনদের ফটোকপি।
  • বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের প্রত্যয়নপত্র (যদি কোন কিন্ডারগার্টেন এর শিক্ষার্থী হয়)।
  • আবেদনকারীর একটি সচল মোবাইল নাম্বার।

আরও পড়ুনঃ জন্ম নিবন্ধন কি | জন্ম নিবন্ধন কি কি কাজে লাগে?

নিবন্ধনকারীর বয়স: ৫ বছরের বেশি হলে

  • ব্যক্তির বয়স প্রমানের জন্য কোনো সরকারি MBBS ডাক্তারের সত্যায়িত প্রত্যয়নপত্র।
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, নিবন্ধনাধীন ব্যক্তির JSC/SSC/সমমান পরীক্ষার সার্টিফিকেট।
  • শিশুর ঠিকানার চলতি হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের রশিদ।
  • প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের প্রত্যয়নপত্র (প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হলে)।
  • নিবন্ধনকারীর পিতা-মাতার ডিজিটাল জন্ম সনদের ফটোকপি।
  • আবেদনকারীর একটি সচল মোবাইল নাম্বার।

এছাড়াও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পিতা-মাতার NID Card এর ফটোকপি ও অন্যান্য কাগজপত্র চাইতে পারে। তাই আবেদনের শুরুতেই এগুলো সংগ্রহ করে রাখতে হবে।

আরও পড়ুনঃ জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে কি কি লাগে ২০২৪

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরম পূরণ করার নিয়ম

জন্ম নিবন্ধন আবেদন করতে, 

  • জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ওয়েবসাইটে যান।
  • নিবন্ধনের ঠিকানা বাছাই করুন।
  • নিবন্ধনকারীর তথ্য এবং পিতা-মাতা ও ঠিকানার তথ্য দিন।
  • আবেদনকারীর প্রত্যয়নবাচক তথ্য দিন।
  • প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস জমা দিন।
  • মোবাইলে OTP ভেরিফাই করুন।
  • আবেদন সাবমিট করুন।

নতুন নিবন্ধন আবেদনের জন্য উপরোক্ত ধাপগুলো ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে। তাহলেই আপনার নিবন্ধনটি তৈরি করা হবে। 

(বি:দ্র: খেয়াল রাখবেন, অনলাইন আবেদন ফরমের থাকা লাল (*) চিহ্নিত প্রতিটি ঘরের তথ্য পূরণ করতে হবে।)

যাইহোক, আপনাদের সুবিধার জন্য অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন ফরম পূরন করা সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি নিচে ধাপে ধাপে ছবিসহ তুলে ধরা হলো:

ধাপ ১: জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ওয়েবসাইটে যান

জন্ম নিবন্ধনের জন্য অনলাইনে আবেদন ফরম পেতে সরাসরি bdris.gov.bd/br/application -এই লিংকে যান। লিংকে ক্লিক করার পর আপনাকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সরকারি ওয়েবসাইটে নিয়ে যাবে।

সেখানে জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন ফরম পাবেন। এক্ষেত্রে একটি ধাপ শেষ করে পরবর্তী ধাপে গিয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো পূরন করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন আবেদন করুন নিজেই

ধাপ ২: নিবন্ধনের ঠিকানা সিলেক্ট করুন

এখানে আবেদন ফরমের প্রথম পেইজেই নিবন্ধনের ঠিকানা সিলেক্ট করতে হবে। মূলত আপনার জন্ম সনদটি কোন এরিয়ার মধ্যে হবে, তা এখানে সিলেক্ট করতে পারবেন।

এখানে ৩টি অপশন পাবেন। যথা:

(১) ব্যক্তির জন্মস্থান,

(২) ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানা, এবং

(৩) বিদেশে থাকা বাংলাদেশি দূতাবাস।

নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন - birth certificate application

আপনি এখানে যেই ঠিকানাটি সিলেক্ট করবেন, সেই ঠিকানাতেই আপনার সনদটি ইস্যু করা হবে। তাই আপনার সুবিধা অনুযায়ী ঠিকানা সিলেক্ট করুন। তারপর ‘পরবর্তী’ লেখাতে ক্লিক করে নতুন পেইজে যান।

ধাপ ৩: নিবন্ধনকারীর পরিচিতির তথ্য পূরন

নতুন পেজে, নিবন্ধনকারীর পরিচয়বাচক তথ্যগুলো পূরনের অপশন পাবেন। সেখানে যা যা পূরন করতে হবে, সেগুলো হলো:

  • শিশু/ ব্যক্তির নাম বাংলা ও ইংরেজিতে (নামের প্রথম অংশ ও শেষ অংশ – ২টি ভাগে)।
  • শিশুর সঠিক জন্ম তারিখ।
  • নিবন্ধনকারী শিশুটি, তার পিতা-মাতার কততম সন্তান।
  • শিশুর লিঙ্গ।

এসকল তথ্যগুলো সঠিকভাবে পূরন করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ জন্ম নিবন্ধন বয়স সংশোধন বন্ধ করতে কড়া নির্দেশনা

ধাপ ৪: নিবন্ধনের ঠিকানার তথ্য পূরণ

আবেদনের প্রথম ধাপে আপনি যেই ঠিকানাটি সিলেক্ট করেছিলেন, নিবন্ধনকারীর তথ্য পূরনের পর এখানে সেই ঠিকানাটির তথ্য পূরণ করতে হবে। 

জন্ম নিবন্ধন আবেদন অনলাইন - ব্যক্তিগত তথ্য পূরন

অর্থাৎ, আপনি যদি নিবন্ধনের ঠিকানা হিসেবে প্রথম ধাপে স্থায়ী ঠিকানা সিলেক্ট করে থাকেন, তাহলে এখানে স্থায়ী ঠিকানার তথ্যগুলো দিতে হবে।

আর যদি প্রথমে নিবন্ধনের ঠিকানা হিসেবে জন্মস্থান নির্বাচন করেন, তাহলে এখানেও জন্মস্থানের ঠিকানার তথ্য দিতে হবে। যাইহোক, নির্ধারিত ঠিকানা নাম এখানে উল্লেখিতই থাকবে।

এখানে সেই ঠিকানার দেশ, বিভাগ, জেলা, উপজেলা, ডাকঘর, গ্রাম, সড়ক/ হোল্ডিং নাম্বার ইত্যাদি তথ্য বলে দিতে হবে। প্রথমে দেশ ও বিভাগ সিলেক্ট করার পর জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নের অপশন গুলো পাবেন। তারপর ধাপে ধাপে সবগুলো পূরণ করে নতুন পেজে যাবেন।

আরও পড়ুনঃ জন্ম নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করার নিয়ম ২০২৪

ধাপ ৫: পিতা-মাতার তথ্য পূরণ

নতুন পেজে, নিবন্ধনকারীর পিতা ও মাতার পরিচয়বাচক তথ্যাবলী পূরণ করতে হবে। মূলত এখানে-

  • পিতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর, 
  • জন্ম তারিখ, 
  • বাংলা ও ইংরেজিতে পিতার নাম, 
  • পিতার জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর (ঐচ্ছিক),
  • পিতার জাতীয়তা, এ সকল তথ্যগুলো পূরণ করতে হবে। 

জন্ম নিবন্ধন অনলাইন আবেদন - পিতা-মাতার তথ্য পূরন

পিতার তথ্যের অনুরূপভাবে মাতার তথ্যগুলোও পূরণ করতে হবে। খেয়াল রাখবেন, আপনার দেওয়া তথ্য গুলো যেন তাদের NID Card কিংবা ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধনের তথ্যানুসারে হয়।

সকল তথ্য পূরণ করা হলে ‘পরবর্তী’ লেখাতে ক্লিক করে নতুন পেইজে যাবেন।

আরও পড়ুনঃ অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করুন ২০২৪

ধাপ ৬: বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার তথ্য পূরণ

এখানে জন্ম নিবন্ধনকারীর অন্যান্য ঠিকানার তথ্যগুলো দিতে হবে। ৪র্থ ধাপে আমরা নিবন্ধনের ঠিকানার তথ্য পূরণ করেছি। 

মূলত জন্ম নিবন্ধন করার সময় আমাদের ৩টি ঠিকানার তথ্য দিতে হয়। যথা: জন্মস্থানের ঠিকানা, স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা। 

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন - বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার তথ্য পূরন

পূর্বের ধাপে আপনি যদি জন্মস্থানের ঠিকানা পূরন করে থাকেন, তাহলে এবার স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা তথ্য পূরণ করবেন। আপনার জন্মস্থানের ঠিকানা ও এই ঠিকানা একই হলে, ঠিকানার পাশে চেকবক্সে টিক দিবেন। 

আবার স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা একই হলে, বর্তমান ঠিকানার পাশে চেকবক্সে টিক দিবেন। তাহলেই বর্তমান ঠিকানার তথ্য অনুযায়ী স্থায়ী ঠিকানা তথ্যগুলোও পূরণ হয়ে যাবে।

ধাপ ৭: আবেদনকারীর তথ্য দিন

এখানে জন্ম নিবন্ধনকারী শিশুর পক্ষ থেকে যিনি আবেদন করছেন, তার তথ্যাবলী পূরণ করতে হবে। আবেদনকারী ব্যক্তি যদি শিশুর পিতা বা মাতা হয়, তাহলে নিচের তালিকা থেকে পিতা/ মাতা সিলেক্ট করে দিলেই হবে। 

নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন - আবেদনকারীর প্রত্যয়ন

আর যদি পিতা-মাতা ছাড়া অন্য কেউ আবেদন করে থাকে, তাহলে আবেদনকারীর নাম, জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্ম তারিখ পূরণ করতে হবে।

যাইহোক, এখানে আরো কিছু দিকনির্দেশনা রয়েছে, চাইলে সেগুলোও পড়ে নিতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন তথ্য না পেলে করণীয়।

ধাপ ৮: প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস আপলোড করুন

আবেদনকারী তথ্য পূরণের পর, একই পেইজে নিচের দিকে গেলেই ডকুমেন্টস আপলোড করার অপশন পাবেন। এখানে শিশুর জন্ম তারিখ ও পিতা-মাতার তথ্যাবলী প্রমাণ করতে কিছু ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে। 

এক্ষেত্রে আপনি উপরে জন্ম নিবন্ধন করতে যা যা লাগে, সেই তালিকা থেকে শিশুর বয়স অনুযায়ী উপযুক্ত কাগজপত্র গুলো আপলোড করবেন। 

জন্ম নিবন্ধন অনলাইন আবেদন - প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস আপলোড

ডকুমেন্ট আপলোড করতে, প্রথমেই ‘সংযোজন’ লেখা অপশনে ক্লিক করবেন। তারপর কম্পিউটারের বা মোবাইলের ফাইল থেকে পূর্বে সেভ করে রাখা ডকুমেন্টটি (প্রমাণপত্রের ছবিটি) সিলেক্ট করে দিন।

এবার সেই ফাইলটি এখানে দেখানো হবে। তারপর ‘File type’ এর ড্রপডাউন অপশনে ক্লিক করে, আপনি কি ধরনের প্রমাণপত্র দিয়েছেন তা সিলেক্ট করুন। সর্বশেষে ডান পাশের ‘Start’ লেখাতে ক্লিক করে ফাইল আপলোড করে দিন। 

এভাবে একাধিক প্রমাণপত্র/ ডকুমেন্টস যুক্ত করুন। কাঙ্খিত তথ্যের প্রমাণপত্র গুলো আপলোড করা হয়ে গেলে, নিচের ডান পাশের ‘পরবর্তী’ লেখাতে ক্লিক করে নতুন পেইজে যান।

ধাপ ৯: আবেদনপত্র রিভিউ করুন

আপনার আবেদনের তথ্যপূরণ সম্পন্ন হয়েছে। এবার নতুন পেজে আবেদনপত্র সাবমিট করা সকল তথ্য দেখতে পারবেন।

জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্র রিভিউ - new birth certificate application online

প্রতিটি তথ্য ঠিক আছে কিনা মিলিয়ে নিবেন। কারণ পরবর্তীতে এই তথ্যগুলোই জন্ম নিবন্ধনে দেখানো হবে।

কোন তথ্য পরিবর্তন করতে চাইলে, পূর্বের ধাপে গিয়ে সেটি পরিবর্তন করে নিন। সকল তথ্য ঠিক থাকলে কিছুই করতে হবে না। তারপর সম্পূর্ণ রিভিউ পেজটি স্ক্রল করে নিচের দিকে যাবেন।

আরও পড়ুনঃ জন্ম নিবন্ধনের নাম সংক্রান্ত নতুন নিয়ম

ধাপ ১০: OTP ভেরিফাই করে আবেদন সাবমিট করুন

রিভিউ পেজটির নিচের দিকে দেখতে পাবেন, সেখানে ইমেইল ও ফোন নাম্বার চাইবে। সেখানে আপনার একটি সচল ইমেইল এড্রেস ও ফোন নম্বর লিখবেন।

১১ ডিজিটের ফোন নম্বর লেখার পর ‘ওটিপি পাঠান’ লেখাতে ক্লিক করবেন। ব্যাস, কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনার মোবাইলে ৬ সংখ্যার একটি ওটিপি কোড যাবে।

তারপর পাশেই ওটিপি লেখা এবং একটি খালিঘর দেখতে পাবেন। সেই খালি ঘরে ৬ সংখ্যার কোডটি লিখবেন।

জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন - ওটিপি ভেরিফিকেশন - bdris application

এবার সর্বশেষে থাকা ‘সাবমিট’ লেখাতে ক্লিক করলেই আপনার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন আবেদন সাবমিট হয়ে যাবে। তারপর ওয়েব পেজটি রিডাইরেক্ট করে আপনাকে একটি আবেদনের সারাংশ পেজে নিয়ে যাবে।

ব্যাস, এভাবেই অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করতে হয়। এছাড়াও আপনি চাইলে সরাসরি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ/ সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে গিয়েও জন্ম নিবন্ধন আবেদন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরম ডাউনলোড pdf করে, আবেদন ফরমটি সম্পূর্ণভাবে পূরণ করে জমা দিতে হবে।

যাই হোক, শুধু আবেদন করলেই হবে না, বরং আবেদনের পর আবেদন পত্রের কপি প্রিন্ট করে ইউনিয়ন পরিষদে জমা দিতে হবে। নিচে সে সম্পর্কে জেনে নিন।

আরও পড়ুনঃ জন্ম নিবন্ধন পসিবল ডুপ্লিকেট সমস্যায় করণীয়

জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্র প্রিন্ট করুন

নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন সম্পন্ন করার পর, আবেদনের সারাংশ পেজে বা একটি কনফার্মেশন পেজে আপনাকে নিয়ে যাবে। সেখানে আপনাকে এপ্লিকেশন আইডি (আবেদনপত্র নম্বর) দেখানো হবে। 

জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্র প্রিন্ট - জন্ম নিবন্ধন আবেদন কপি ডাউনলোড

(বি:দ্র: আপনি চাইলে এই পেজের ‘ফ্রি প্রদান করুন’ লেখাতে ক্লিক করে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধনের ফি পরিশোধ করতে পারবেন।)

এই কনফার্মেশন পেজে থাকা তথ্যগুলোর নিচের দিকে ‘আবেদনপত্র প্রিন্ট করুন’ – এমন অপশন পাবেন। সেখানে ক্লিক করলে আপনার অনলাইন আবেদন ফরমের PDF কপি দেখানো। তারপর সেখানে কম্পিউটারের ‘Print preference’ ঠিক করে ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে নিবেন। 

জন্ম নিবন্ধন ফরমের এই কপিটির সাথে জন্ম নিবন্ধন করতে যা যা লাগে, সে সকল কাগজপত্র পিনআপ করে ইউনিয়ন পরিষদে/ সিটি কর্পোরেশনে জমা দিতে হবে। এটি জমা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই কপি ইউনিয়ন পরিষদে জমা না দিলে, অথবা আবেদনের পর ১৫ দিনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগ না করলে আবেদনটি বাতিল করা হতে পারে। তাই আবেদনের পর এই প্রিন্টেড কপি সাথে নিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হবে।

আরও পড়ুনঃ জন্ম নিবন্ধন আবেদন অবস্থা যাচাই | Birth Certificate Application Status

জন্ম নিবন্ধন করার নির্ধারিত ফি

বয়স ভেদে জন্ম নিবন্ধন করার ফি কমবেশি হয়ে থাকে। যেমন: 

  • শিশুর বয়স ০-৪৫ দিন হলে বিনা খরচে জন্ম নিবন্ধন করা যায়। 
  • শিশুর বয়স ৪৬ দিন থেকে ৫ বছর হলে, জন্ম নিবন্ধন করতে ২৫ টাকা ফি দিতে হয়। (বিদেশ থেকে করলে ১ ডলার)।
  • শিশুর বয়স ৫ বছরের বেশি হলে, জন্ম নিবন্ধন করতে ৫০ টাকা ফি দিতে হয়। (বিদেশ থেকে করলে ১ ডলার)।

আরও পড়ুনঃ জন্ম নিবন্ধনের ফি অনলাইনে পেমেন্ট করার সঠিক পদ্ধতি

জন্ম নিবন্ধন সংগ্রহ করবেন যেভাবে

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার পর, আবেদন পত্রের কপি ইউনিয়ন পরিষদে জমা দিতে হবে ও নিবন্ধন ফি পরিশোধ করতে হবে। তারপর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৭-১০ দিন সময় চাইতে পারে। 

অনেক সময় ৭ দিনের আগেই জন্ম নিবন্ধন তৈরি হয়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে ১৫ দিনেরও বেশি সময় লাগতে পারে। ইউনিয়ন পরিষদ/ সিটি কর্পোরেশন কাউন্সিলরের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে জেনে নিতে পারবেন। 

তারপর সরাসরি নির্ধারিত কার্যালয়ে গিয়ে আপনার শিশুর জন্ম সনদটি সংগ্রহ করে নিবেন।

আরও পড়ুনঃ Birth Certificate জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড করুন

জন্ম নিবন্ধন আবেদন সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর (FAQ’s)

(১) বিদেশে বাংলাদেশী দূতাবাস থেকে কিভাবে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করা যাবে?

বিদেশে অবস্থান করে বাংলাদেশী জন্ম নিবন্ধন করতে চাইলে, bdris.gov.bd/br/application – এই লিংকে যাবেন। এবার নিবন্ধনের ঠিকানা হিসেবে বাংলাদেশী দূতাবাস (⬜) অপশনে টিক দিন। তারপর আবেদনকারীর, পিতা-মাতার ও ঠিকানার তথ্য দিয়ে ডকুমেন্টস আপলোড করবেন। সর্বশেষে আবেদনটি রিভিউ করে, OTP ভেরিফাই করে সাবমিট করে দিবেন।

এভাবে আপনি বিদেশে থেকেও বাংলাদেশী দূতাবাসে বাংলাদেশের জন্ম নিবন্ধন করার আবেদন করতে পারবেন।

শিশুর টিকা কার্ড ছাড়া জন্ম নিবন্ধন করা যাবে কি? 

হ্যাঁ। শিশুর টিকা কার্ড না থাকলেও জন্ম নিবন্ধন করা যাবে। তবে সেক্ষেত্রে বিকল্প প্রমাণপত্র হিসেবে, একজন রেজিস্টার্ড স্বাস্থ্যকর্মীর স্বাক্ষরসহ প্রত্যয়ন পত্রের কপি জমা দিতে হয়। 

নতুন জন্ম নিবন্ধন করতে কত দিন লাগে?

নতুন জন্ম নিবন্ধন করতে ৫-৭ দিন সময় লাগে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক কর্ম-জটিলতার কারণে ৭ দিনের বেশি সময় লাগতে পারে।

জন্ম নিবন্ধন আবেদন বাতিল করবো কিভাবে? 

অনলাইনে আবেদনের পর নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন বাতিল করতে চাইলে, আবেদনপত্রের প্রিন্টেড কপি ইউনিয়ন পরিষদে জমা না দিলেই হবে। ১৫ দিনের মধ্যে এই আবেদনপত্রের কপি ও ফি জমা না দিলে আবেদনটি এমনিতেই বাতিল করা হতে পারে।

বিদেশে থেকে বাংলাদেশী জন্ম নিবন্ধন করা যাবে কি? 

হ্যাঁ। বিদেশে থেকেও, আপনার অবস্থানরত দেশের বাংলাদেশী দূতাবাসে জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এরপর সেই দূতাবাস থেকেই জন্ম সনদটি সংগ্রহ করতে পারবেন।

2 Comments

    1. আপনার প্রশ্নটি একটু বিস্তারিত বলবেন প্লিজ। অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে, আমাদের জন্ম নিবন্ধন অনলাইন আবেদন সম্পর্কিত পোস্টটি পড়তে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *