জন্ম নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করার নিয়ম ২০২৫
কোন ব্যক্তির একাধিক জন্ম নিবন্ধন থাকলে, তা বাতিল করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপনার ডুপ্লিকেট নিবন্ধন থাকলে জন্ম নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করার নিয়ম জেনে নিন এখানে।

পূর্বে যখন হাতে লিখে জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করা হতো, তখন অনেকেই একাধিক নিবন্ধন করেছিল। কেউ কেউ আবার একটি সনদ হারিয়ে গেলে আরেকটি সনদ করেছে। আবার অনেকেই নিজেদের সুবিধামতো তথ্য দিয়ে একাধিক জন্ম নিবন্ধন করে রেখেছে।
এমতাবস্থায়, একজন ব্যক্তির নামে একাধিক জন্ম সনদ থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সরকারি নির্দেশনাও রয়েছে। তাই আইনের জটিলতা থেকে বাঁচতে আপনার অপ্রয়োজনীয় নিবন্ধনটি বাতিল করে ফেলতে পারেন।
এক্ষেত্রে ডুপ্লিকেট বা একাধিক জন্ম নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করার নিয়ম, আবেদন করতে কি কি লাগবে, কোথায় আবেদন করবেন, কত টাকা লাগবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন এই আর্টিকেল থেকে।
জন্ম নিবন্ধন বাতিল করার নিয়ম
জন্ম নিবন্ধন বাতিল করার নিয়ম হলো, স্থানীয় নিবন্ধকের কার্যালয়ে গিয়ে জন্ম নিবন্ধন বাতিল ফরম সংগ্রহ করবেন। তারপর সেই ফরমে জন্ম নিবন্ধনের যাবতীয় তথ্য, নিবন্ধন বাতিলের কারণ, ডুপ্লিকেট নিবন্ধনের প্রমাণ ইত্যাদি তথ্য পূরণ করে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে আবেদন দাখিল করবেন।
এভাবে আবেদন দাখিল করার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আপনার নিবন্ধন বাতিলের স্বপক্ষে প্রমাণপত্র যাচাই বাছাই করবে। তারপর বাতিলের আবেদনটি অনুমোদন দিলে আপনার সনদটি বাতিল করে দেওয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন আবেদন করুন নিজেই।
২০২৩ সাল পর্যন্ত অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করা যেতো। কিন্তু বর্তমানে সাধারণ নাগরিকরা নিজেরা নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করতে পারে না। বরং নিবন্ধক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা Bdris সার্ভারে User ID ও Password লগইন করে বাতিলের আবেদনটি সাবমিট করতে হয়।
যেহেতু সাধারণ নাগরিকদের কাছে Bdris সার্ভারের User ID ও Password নেই, সুতরাং সরাসরি নিবন্ধক কার্যালয়ে গিয়ে আবেদন করেই সনদ বাতিল করতে হবে।
আরও পড়ুনঃ Birth Certificate জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড করুন।
জন্ম নিবন্ধন বাতিল করতে কি কি লাগে?
জন্ম নিবন্ধন বাতিল করার জন্য আপনার যেসকল প্রমাণ পত্রের প্রয়োজন হবে, সেগুলো হলো:
- যেই সনদটি বাতিল করতে চান সেই সনদের ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর।
- সঠিক জন্ম তারিখ।
- একাধিক জন্ম নিবন্ধন থাকার প্রমাণ।
- জন্ম নিবন্ধন বাতিল করতে ১০০ টাকা ফি।
এক্ষেত্রে একাধিক জন্ম নিবন্ধন থাকার প্রমাণপত্র হিসেবে Bdris ওয়েবসাইটে ডুপ্লিকেট জন্ম নিবন্ধন এন্ট্রি হওয়ার প্রমাণ জমা দিতে পারবেন। অর্থাৎ Bdris সার্ভারে একই ব্যক্তির তথ্য দিয়ে ২টি নিবন্ধন হয়েছে এমন প্রমাণ দিতে হবে।
আরও পড়ুনঃ জন্ম নিবন্ধন হারিয়ে গেলে করণীয় কি?
জন্ম নিবন্ধন বাতিলের জন্য আবেদন
জন্ম নিবন্ধন বাতিলের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে,
- সর্বপ্রথম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সরাসরি আপনার নিবন্ধনের নিবন্ধক কার্যালয়ে যাবেন।
- সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে বলে, তাদের থেকে জন্ম নিবন্ধন বাতিলের আবেদন ফরম সংগ্রহ করবেন।
- তারপর জন্ম নিবন্ধন বাতিল ফরম যথাযথভাবে পূরণ করবেন। এক্ষেত্রে জন্ম সনদটি বাতিল করার কারণ এবং ডুপ্লিকেট জন্ম নিবন্ধন থাকলে সেই নিবন্ধনের তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।
- আপনার যদি একাধিক জন্ম সনদ না থাকে, তাহলে আপনার ইচ্ছামতো/সুবিধামতো চাইলেই একটি সনদ বাতিল করতে পারবেন না। অবশ্যই যথাযথ ও উপযুক্ত কারণ এবং সেই কারণের প্রেক্ষিতে প্রমাণপত্র জমা দিয়েই বাতিলের আবেদন করতে হবে।
- আবেদন ফরম পূরণ করার পর, সেই আবেদনপত্রের সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র/ ডকুমেন্টস যুক্ত করতে হবে। তারপর আপনার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়/ পৌরসভা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে সেই সম্পূর্ণ আবেদনপত্রটি জমা দিবেন।
- তারপর নিবন্ধকের কার্যালয়েই জন্ম নিবন্ধন বাতিল ফি ১০০ টাকা জমা দিবেন।
আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর নিবন্ধক কার্যালয়ের (ইউনিয়ন পরিষদের/পৌরসভা কার্যালয়ের) কর্মকর্তারা আপনার আবেদনের তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করবে। তারপর তারা অনুমোদন দিলে খুব দ্রুতই আপনার জন্ম নিবন্ধন বাতিল করা হবে। সনদ বাতিলের আবেদন অনুমোদন করা হলে, Bdris সার্ভার থেকেও সেই সনদের তথ্য মুছে ফেলা হবে।
এভাবে আবেদন করে আপনি আপনার ডুপ্লিকেট বা বাড়তি জন্ম নিবন্ধনটি বাতিল করে দিতে পারবেন। আর সে সনদ বাতিল হলে আপনি বিভিন্ন আইনি জটিলতা থেকেও নিরাপদ থাকতে পারবেন।
আরও পড়ুনঃ জন্ম নিবন্ধন পসিবল ডুপ্লিকেট সমস্যায় করণীয়।
জন্ম নিবন্ধন বাতিল ফি
বর্তমান বাংলাদেশ প্রচলিত জন্ম নিবন্ধন বিধিমালা ২০১৮ এর ২১ ধারা মোতাবেক জন্ম নিবন্ধন সংশোধন/ বাতিলের নির্ধারিত ফি ১০০ টাকা। বিদেশে থাকা বাংলাদেশি কোন দূতাবাস থেকে আবেদন করলে জন্ম নিবন্ধন বাতিল ফি হবে $2, বা ২ মার্কিন ডলার।
মূলত জন্ম নিবন্ধন বিধিমালা ২০১৮ এর ১৫ (২) ধারায় নির্ধারিত ফি দিয়ে জন্ম নিবন্ধন বাতিল/সংশোধনের আবেদন করার বিষয়টি উল্লেখিত রয়েছে। কিন্তু নিবন্ধন ফি সম্পর্কিত বিধিমালার ২১ ধারায় জন্ম সনদ বাতিলের ফি কত টাকা, তা উল্লেখিত নেই।
তাই আমরা বলতে পারি, সনদ বাতিলের ফি সংশোধন ফি এর সমপরিমাণ। অর্থাৎ, ১০০ টাকা জমা দিতে হবে।দ
জন্ম নিবন্ধন বাতিল আইন
জন্ম নিবন্ধন সনদ বাতিল সংক্রান্ত আইন উল্লেখিত রয়েছে “জন্ম নিবন্ধন বিধিমালা ২০১৮” এর ১৫ ধারায়। এই ধারা অনুযায়ী ডুপ্লিকেট বা একাধিক জন্ম নিবন্ধন বাতিলের জন্য আবেদন জমা দিতে পারবেন।
আবার জন্ম সনদ বাতিলের ফি সংক্রান্ত আইন হলো “জন্ম নিবন্ধন বিধিমালা ২০১৮” এর ২১ ধারা। এই ধারা অনুযায়ী সনদ বাতিলের ফি পরিশোধ করতে হবে।
ডুপ্লিকেট বা একাধিক জন্ম নিবন্ধন বাতিল
ডুপ্লিকেট বা একাধিক জন্ম নিবন্ধন বাতিল করতে,
- প্রথমে স্থানীয় নিবন্ধকের কার্যালয়ে যাবেন।
- নিবন্ধকের কার্যালয় থেকে জন্ম নিবন্ধন বাতিল ফরম সংগ্রহ করবেন।
- তারপর জন্ম নিবন্ধন বাতিল ফরম যথাযথভাবে পূরণ করবেন এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র ও আবেদন ফরমের সাথে যুক্ত করবেন।
- সর্বশেষে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের কার্যালয়ে আবেদন ফরম জমা দিবেন এবং নিবন্ধন বাতিল ফি পরিশোধ করবেন।
এভাবে আপনার একাধিক জন্ম নিবন্ধন থাকলে ডুপ্লিকেট জন্ম নিবন্ধনটি বাতিল করে নিতে পারবেন। কোন ব্যক্তির একাধিক জন্ম নিবন্ধন থাকলে বর্তমানে তা আইনিভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই ভুলবশত একাধিক নিবন্ধন করে ফেললেও, অপ্রয়োজনীয় নিবন্ধনটি বাতিল করে নেওয়ায় উত্তম। এক্ষেত্রে উপরোক্ত দেখানোর পদ্ধতিতে আবেদন করতে পারেন।
আরও পড়ুনঃ অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন তথ্য না পেলে করণীয়।
জন্ম নিবন্ধন সংশোধন আবেদন বাতিল করার নিয়ম
জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য আবেদন করে ফেলার পর কোন কারণবশত সে তথ্যটি সংশোধন করতে না চাইলে, জন্ম নিবন্ধন সংশোধন আবেদন বাতিল করতে পারবেন।
জন্ম নিবন্ধন সংশোধন আবেদন বাতিল করতে, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে “জন্ম/মৃত্যু সনদ বাতিল/সংশোধনের জন্য আবেদনপত্র” বা ফরম সংগ্রহ করবেন। তারপর সেই ফরমে যথাযথভাবে আবেদন বাতিলের উপযুক্ত কারণ তুলে ধরে ফর্মটি পূরণ করতে হবে।
তারপর নির্ধারিত ফি ইউনিয়ন পরিষদের জমা দিয়ে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন আবেদন বাতিল করার জন্য দাখিল করতে হবে।
শেষকথা
উপরোক্ত আলোচনা থেকে আপনারা জন্ম সনদ বাতিল করার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারলেন। আলোচ্য পদ্ধতিতে এখন থেকে আপনার ২টি নিবন্ধন থাকলে প্রয়োজনীয় নিবন্ধনটি রেখে ডুপ্লিকেট নিবন্ধন টি বাতিলের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
তাছাড়া জন্ম নিবন্ধন এর তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন করে থাকলে, এবং সেই তথ্য সংশোধন করতে না চাইলেও জন্ম নিবন্ধন সংশোধন আবেদন বাতিলের আবেদন করতে পারবেন। আশাকরি, সম্পূর্ণ আলোচনাটি বুঝতে পেরেছেন।
যেই জন্ম সনদ টা আমি বাতিল করব সেটা এখন আমার কাছে নেই।অইটা দিয়েই আইডি কার্ড হয়েছে।যা আমার সার্টিফিকেট এর সাথে কোনো মিল নেই।অইটা বাতিল কিভাবে করব।বাতিল করার পর আমি আইডি সংশোধন করতে পারব
আপনার এনআইডি কার্ড ও জন্ম সনদের তথ্য কি একইরকম, নাকি ভিন্ন ভিন্ন?
যদি জন্ম নিবন্ধন আর আইডি কার্ডের তথ্য একই হয়, তাহলে সার্টিফিকেটের তথ্য সংশোধন করে নিলেই বেশি সুবিধা হবে আপনার জন্য।
আর কোন প্রশ্ন থাকলে জানাতে পারেন।