জন্ম নিবন্ধন বয়স সংশোধন বন্ধ করতে কড়া নির্দেশনা
২০২৩ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি-তে জন্ম নিবন্ধন এ বয়স সংশোধন বন্ধ করতে কঠিন নির্দেশনা জারি করেছে রেজিস্টার জেনারেলের কার্যালয়।
বর্তমানে জন্ম নিবন্ধন বয়স সংশোধন করা প্রায় সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। “জন্ম সনদে জন্ম তারিখ পরিবর্তন নির্দেশনা ২০২৩” -এ এরকম নির্দেশনা জারি করা হয়েছিলো নিবন্ধকের কার্যালয় থেকে।
এখন থেকে পাবলিক পরীক্ষায় রেজিস্ট্রেশন, বোর্ড পরীক্ষার সার্টিফিকেট, এনআইডি কার্ড কিংবা পাসপোর্ট অনুসারে জন্ম তারিখ পরিবর্তন করা যাবে না।
তবে যদি প্রমাণ করতে পারেন যে, আপনার জন্ম নিবন্ধনের সময় আপনি সঠিক তথ্য দেওয়ার পরেও নিবন্ধকের কার্যালয় থেকে ভুল তথ্য সাবমিট করা হয়েছিল, তাহলে জন্ম সনদের জন্ম তারিখের দিন ও মাস সংশোধন করতে পারবেন। কিন্তু কোনভাবেই জন্ম তারিখের বছর পরিবর্তন করা যাবে না।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এবং রেজিস্টার জেনারেলের নির্দেশনায় কি লিখিত ছিল তা জানতে নিচের লেখাগুলো পড়তে থাকুন।
জন্ম নিবন্ধন বয়স সংশোধন করা কি বন্ধ?
হ্যাঁ। সম্প্রতি ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ তারিখে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যালয়ের রেজিস্টার জেনারেল স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনায় বলা হয়েছে- শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট, NID Card ও পাসপোর্ট অনুসারে জন্ম সনদের জন্ম তারিখ বা সাল পরিবর্তন করা যাবে না।
কিন্তু যদি নিবন্ধকের কার্যালয়ের কোন কর্মকর্তা ভুল তথ্য সার্ভারে লিপিবদ্ধ করে, এবং সে বিষয়ের উপযুক্ত প্রমাণ দেওয়া যায়, তাহলে উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে শুধুমাত্র জন্ম তারিখের দিন ও মাসের সংখা পরিবর্তন করা যাবে।
কিন্তু কোন তথ্য দিয়েই জন্ম তারিখের বছরের সংখ্যা পরিবর্তন করা যাবে না। এ বিষয়ে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের কার্যালয় থেকে সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
জন্ম নিবন্ধনে জন্ম তারিখ সংশোধন সম্পর্কে রেজিস্টার জেনারেলের নির্দেশনা
জন্ম নিবন্ধনে জন্ম তারিখ সংশোধন সম্পর্কে জামা ও মৃত্যু নিবন্ধন সম্পর্কিত রেজিস্টার জেনারেল- একটি নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। ২০২৩ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ হওয়া সেই নির্দেশনায় যা উল্লেখিত ছিল, তার নমুনা তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
“জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন ২০০৪ (সংশোধিত ২০১৩) অনুসরণে দেশে বা বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করা হয়। এ আইনের অধীন প্রণীত বিধিতে শিশুর জন্মের পরপরই এবং ব্যক্তির মৃত্যুর পরপরই মৃত্যুর খবর স্থানীয় রেজিস্ট্রারকে দেয়া ও নিবন্ধন করানোর তাগিদ রয়েছে।
শিশুদের ক্ষেত্রে তার জন্ম সনদে লিখিত তারিখই হবে প্রথম ও আদি জন্ম তারিখ। এই জন্ম তারিখের ভিত্তিতেই তার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি হয়ে থাকে।
আরও পড়ুনঃ অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করুন ২০২৪
কিন্তু পর্যবেক্ষণ দেখা যায় যে, অনেকেই পাবলিক পরীক্ষায় রেজিস্ট্রেশন, জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি, পাসপোর্ট করার সময় জন্ম সনদে রেজিস্ট্রারকৃত তারিখ না দিয়ে, অন্য একটি তারিখ দিয়ে পাবলিক পরীক্ষায় রেজিস্ট্রেশন, পাবলিক পরীক্ষার সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট তৈরি করে।
পরবর্তীতে, তারা পাবলিক পরীক্ষার সনদ, NID Card বা পাসপোর্টে দেওয়া তথ্যের অনুসারে জন্ম নিবন্ধনের জন্ম তারিখ সংশোধন করার আবেদন করে। নিবন্ধক অফিস গুলো এ সকল আবেদন গ্রহণ করে এবং অনুমোদনের জন্য নিম্নস্বাক্ষরকারীর নিকট প্রেরণ করে। এটি সমীচীন (গ্রহণযোগ্য) নয়।
কোন নিবন্ধন অফিস থেকে যেন জন্ম সনদের মূল জন্ম তারিখ পরিবর্তন করে পাবলিক পরীক্ষার সার্টিফিকেট, NID Card, পাসপোর্ট তৈরি করে জন্ম তারিখ বা জন্ম সাল পরিবর্তনের আবেদন গ্রহণ করা না হয়, আপলোড না করা হয় এবং অনুমোদনের জন্য যেন প্রেরণ না করা হয় তার অনুরোধ করা হলো। এ ধরনের আবেদন মোটেও অনুমোদনযোগ্য নয়।
এটি তার অধিক্ষেত্রের সকল নিবন্ধক অফিসে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।”
জন্ম নিবন্ধন বয়স সংশোধন করা কি অসম্ভব?
বর্তমানে বৈধভাবে জন্ম নিবন্ধনের বয়স সংশোধন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
তবে শুধুমাত্র যদি প্রমাণ করতে পারেন যে, নিবন্ধকের কার্যালয় থেকে সার্ভারে আপনার দেওয়া তথ্য আপলোড করা হয়নি, বরং কোন ভুল তথ্য লিপিবদ্ধ হয়েছে, তাহলে শুধুমাত্র জন্ম সনদের জন্ম তারিখের দিন ও মাস পরিবর্তন করা যাবে। কিন্তু বছরের সংখ্যা পরিবর্তন করা যাবে না।
এছাড়াও যদি অতি উপযুক্ত কোন প্রমাণপত্র জমা দিতে পারেন, তাহলেও শুধুমাত্র জন্ম নিবন্ধনে জন্ম তারিখের দিন ও মাসের সংখ্যাই পরিবর্তন করা যাবে। সেক্ষেত্রেও বছরের সংখ্যা পরিবর্তন করা যাবে না।
আরও পড়ুনঃ জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে কি কি লাগে ২০২৪
জন্ম সনদে জন্ম তারিখ সংশোধনের সুযোগ রাখা কি উচিত ছিল?
না। বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী জন্ম সনদে জন্ম তারিখ সংশোধনের সুযোগ না রাখাই উপযুক্ত।
কারণ, শিশুর জন্ম গ্রহণের পর সর্বপ্রথম যে নাগরিকত্বের সনদটি তৈরি করা হয়, সেটি হলো জন্ম নিবন্ধন। পরবর্তীতে এই জন্ম নিবন্ধনের তথ্য অনুসারেই একজন শিক্ষার্থী তার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়।
আবার এই জন্ম নিবন্ধন ও বিদ্যালয়ের সার্টিফিকেটের তথ্যের উপর ভিত্তি করেই একজন ব্যক্তির ভোটার আইডি কার্ড ও পাসপোর্ট তৈরি করা হয়।
তাই যেহেতু জন্ম নিবন্ধনের ভিত্তিতেই অন্যান্য ডকুমেন্টগুলো তৈরি করা হয়। সেক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন এর জন্ম তারিখ ভুল হওয়াও যুক্তিযুক্ত নয়। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানুষজন তাদের নিজেদের সুবিধার্থে বয়স কম-বেশি করার জন্যই জন্ম সনদের বয়স পরিবর্তন করতে চায়।
আরও পড়ুনঃ নতুন জন্ম নিবন্ধন করতে কি কি লাগে ২০২৪
এ ধরনের সুযোগ থাকার কারণেই একজন ব্যক্তি একাধিক জন্ম নিবন্ধন তৈরি করে এবং নানান জালিয়াতি করার সুযোগ পায়। তাই যেহেতু প্রাথমিক ডকুমেন্টই হলো জন্ম নিবন্ধন, সুতরাং অন্য ডকুমেন্টের ভিত্তিতে জন্ম নিবন্ধনের বয়স সংশোধন করা অনুচিত বলেই আমরা মনে করি।
শিক্ষা সনদ দিয়ে জন্ম তারিখ পরিবর্তন করা যাবে কি?
না। বর্তমানে শিক্ষা সনদ বা বোর্ড পরীক্ষার সার্টিফিকেট দিয়ে জন্ম সনদের জন্ম তারিখ পরিবর্তন করা যাবে না।
২০২৩ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত, জন্ম নিবন্ধন এর জন্ম তারিখ সংশোধন সংক্রান্ত নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, “শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট, ভোটার আইডি কার্ড ও পাসপোর্ট অনুসারে জন্ম সনদের জন্ম তারিখ বা সাল পরিবর্তন করা যাবে না।”
শেষকথা
উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারি যে, বর্তমানে জন্ম নিবন্ধন বয়স সংশোধন করা প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই শিশুর জন্ম নিবন্ধন করার ক্ষেত্রে এবং সেই জন্ম সনদ অনুসারে NID Card ও পাসপোর্ট করার সময় সতর্কতার সাথে সঠিক জন্ম তারিখ লিখবেন। ধন্যবাদ।