মৃত্যু নিবন্ধন করতে কি কি লাগে ২০২৫?

আপনার পরিবারের কোনো সদস্য মৃত্যুবরণ করলে এবং তার মৃত্যু সনদ করতে চাইলে, জেনে নিন – মৃত্যু নিবন্ধন করতে কি কি লাগে।

পারিবারিক সম্পত্তির বন্টন, পেনশন প্রাপ্তি, সম্পত্তি নামজারি করা, দেশের জনসংখ্যার হিসাব নিশ্চিত করা ইত্যাদি নানা প্রয়োজনে মৃত্যু নিবন্ধন করতে হয়। কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করার পর সাধারণত তার পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ/ পৌরসভা কার্যালয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে মৃত্যু সনদের জন্য আবেদন করে থাকে।

এক্ষেত্রে উপযুক্ত প্রমাণ ও কাগজপত্র ছাড়া আবেদন এপ্রুভ না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাই আবেদনের পূর্বেই- মৃত্যু সনদ করতে কি কি লাগে এবং মৃত্যু নিবন্ধন ফি কত টাকা, সে সম্পর্কে সঠিক তথ্য জেনে নিন এই আর্টিকেল থেকে।

মৃত্যু নিবন্ধন করতে কি কি লাগে?

সাধারণত মৃত্যু নিবন্ধন করতে- মৃত ব্যক্তির ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ, মৃত্যুবরণের তারিখ ও স্থান সম্পর্কিত প্রমাণপত্র, আবেদনকারী ব্যক্তির NID Card বা জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি, আবেদনকারী ঠিকানার তথ্য ও মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হয়।

যেহেতু মৃত্যু নিবন্ধন বলতে একজন ব্যক্তির মৃত্যুর তথ্য রেজিস্টার করাকে বুঝায়। তাই সেই ব্যক্তির পরিচয় সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য দিয়ে এবং মৃত্যুর তথ্য রেজিস্টার করার জন্য মৃত্যুবরণ সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে আবেদন করতে হয়। 

এক্ষেত্রে আবেদন করার সময় মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য বা যেই অভিভাবক আবেদন করবে, তার পরিচয়বাচক তথ্য গুলোও দিতে হবে। এ সকল তথ্যের ভিত্তিতেই স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ/ পৌরসভা কার্যালয়/ সিটি কর্পোরেশন কাউন্সিলরের কার্যালয়ে মৃত্যু নিবন্ধন রেজিস্টার করা হয়। 

আরও পড়ুনঃ অনলাইনে নতুন মৃত্যু নিবন্ধনের জন্য যেভাবে আবেদন করবেন

মৃত্যু সনদ করতে কি কি লাগে?

বর্তমানে মৃত্যু সনদ করতে যে সকল কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়, সেগুলোর তালিকা নিচে দেওয়া হলোঃ

  • অনলাইনে bdris ওয়েবসাইটে মৃত্যু সনদের জন্য আবেদন করলে, সেই আবেদন পত্রের কপি।
  • মৃত ব্যক্তির অনলাইন করা/ ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদের ফটোকপি।
  • মৃত ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানার তথ্য। 
  • ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখ ও মৃত্যুর স্থান সম্পর্কিত প্রমাণ পত্র। 
  • ব্যক্তির মৃত্যুবরণের স্থানের ঠিকানা ও মৃত্যুর সময় যেই ঠিকানায় বসবাস করতেন তার তথ্য। 
  • মৃত্যু সনদের জন্য মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে যিনি আবেদন করবে, তার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন নম্বর/ NID Number এর তথ্য আবেদনের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। 
  • নিবন্ধনের জন্য যিনি মৃত্যু তথ্য প্রদান করবেন, সেই তথ্য প্রদানকারীর অনলাইন জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও NID Number এর তথ্য।

(উল্লেখ্য যে, আবেদনকারী ব্যক্তিই মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য হলে এবং মৃত্যু তথ্য প্রদানকারী হলে, আবেদনকারীর তথ্যই মৃত্যু তথ্য প্রদানকারীর তথ্য হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।)

আরও পড়ুনঃ মৃত্যু নিবন্ধন কি | মৃত্যু নিবন্ধন কি কি কাজে লাগে?

মৃত্যু সনদ করতে যে সকল কাগজপত্রের প্রয়োজন হবে, সেগুলো সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হলো:

মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন সনদ

বর্তমানে বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধনের মতই মৃত্যু নিবন্ধন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ডকুমেন্ট। একজন ব্যক্তির মৃত্যু সনদ করার সময়, সেই ব্যক্তির পরিচয়বাচক তথ্য নিশ্চিত করার জন্য জন্ম নিবন্ধন সনদের প্রয়োজন হয়। 

যদিও এক্ষেত্রে ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য দিয়েই পরিচয়বাচক তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব। তবুও বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে, মৃত্যু নিবন্ধন করার সময় জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন করা না থাকলে, প্রথমে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সময় করে নিতে হবে। তারপর মৃত্যু সনদের জন্য আবেদন করতে পারবে।

আরও পড়ুনঃ অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করুন ২০২৪

মৃত ব্যক্তির ঠিকানার তথ্য

ব্যক্তি পরিচিতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার তথ্য। তাই মৃত ব্যক্তির বর্তমান ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানা তথ্য দিয়েই সনদের জন্য আবেদন করতে হয়।

এক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন এর মাধ্যমেই সেই ব্যক্তির বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত করা সম্ভব। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদে/ পৌরসভা কার্যালয়ে বিদ্যুৎ বিলের কপি/ ফোল্ডিং ট্যাক্সের রশিদও জমা দিতে পারেন।

মৃত্যুর তারিখ ও মৃত্যুর স্থান সম্পর্কিত প্রমাণপত্র

মৃত্যু সনদ তৈরি করার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণপত্র হলো মৃত্যুর তারিখ ও স্থান সংক্রান্ত প্রমাণপত্র। সেই ব্যক্তি কত তারিখে মৃত্যুবরণ করেছে এবং কোন এলাকায় মৃত্যুবরণ করেছে, তার উপযুক্ত প্রমাণপত্র আবেদনের সাথে সাবমিট করতে হয়।

এক্ষেত্রে আপনি যে সকল কাগজপত্র গুলো প্রমাণ হিসেবে জমা দিতে পারেন, সেগুলো হলো: 

  • মৃত্যুবরণ কালীন সময়ে হাসপাতালে অবস্থান করলে, সেই হাসপাতালের ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীর প্রত্যয়ন।
  • মৃত ব্যক্তির ময়না তদন্ত করা হলে, সেই তদন্ত প্রতিবেদনের স্বাক্ষরিত ফটোকপি। 
  • সেই ব্যক্তির জানাজা সম্পন্নকারী ইমাম।
  • গোরস্থানের কেয়ারটেকার কর্তৃক প্রদত্ত দাফন রসিদের অনুলিপি।
  • ব্যক্তির মৃত্যুবরণ স্থানের, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য/ সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার কাউন্সিলর/ ক্যান্টনমেন্টের অভ্যন্তরীণ হলে ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার কর্তৃক প্রদানকৃত প্রত্যয়ন।

এসকল ডকুমেন্টগুলো থেকে যেকোনো একটি ডকুমেন্টকে মৃত্যুর তারিখ ও মৃত্যুর স্থান সম্পর্কিত প্রমাণপত্র হিসেবে জমা দিলেই হবে।

আবেদনকারীর তথ্য

যেহেতু মৃত্যু সনদ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট, তাই বিশ্বস্ত মাধ্যম ছাড়া এই সনদের নিবন্ধনের আবেদন গ্রহণ করা হয় না। মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যগণ বা অন্যান্য অভিভাবক অথবা সরকারিভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গরাই আবেদন করতে পারবে। 

তাই স্থানীয় নিবন্ধকের কাছে আবেদন দাখিল করার সময়, আবেদনকারীর তথ্য হিসেবে NID Number বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিতে হয়। পাশাপাশি আবেদনকারীর মোবাইল নাম্বার ও ঠিকানার তথ্যও দিতে হয়।

আরও পড়ুনঃ অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন তথ্য না পেলে করণীয়

মৃত্যু তথ্য প্রদানকারীর তথ্য

সনদ নিবন্ধনের জন্য যে সকল ব্যক্তিরা একজন ব্যক্তির মৃত্যুর তথ্য নিবন্ধকের কাছে জানায়, তারাই হলো মৃত্যু তথ্য প্রদানকারী। এক্ষেত্রে আবেদনকারী ছাড়া অন্য কেউ মৃত্যু তথ্য প্রদানকারী ব্যক্তি হলে, সে ব্যক্তির NID Number বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিতে হবে।

উপরোক্ত কাগজপত্র গুলো আপনার কাছে থাকলেই স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে আবেদন দাখিল করতে পারবেন। এছাড়াও আপনি যদি নিজে নিজেই অনলাইনে আবেদন করে থাকেন, তাহলে সেই আবেদন পত্রের কপিটি প্রিন্ট করে ইউনিয়ন পরিষদে জমা দিতে হবে।

মৃত্যু নিবন্ধন করতে কত টাকা লাগে | মৃত্যু নিবন্ধন ফি কত?

সকোন ব্যক্তির মৃত্যুবরণের ৪৫ দিনের মধ্যে মৃত্যু নিবন্ধন করলে, কোন ফি দিতে হয় না। ব্যক্তির মৃত্যুবরণের ৪৫ দিন পেরিয়ে গেলে ৫ বছর পর্যন্ত ২৫ টাকা ফি দিতে হয়। ব্যক্তির মৃত্যুবরণের ৫ বছর পেরিয়ে গেলে ২৫ টাকা ফি দিতে হয়। 

এক্ষেত্রে আপনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে সরাসরি ফি জমা দিতে পারেন। অথবা, অনলাইনে epay.bdris.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে বিকাশের মাধ্যমেও ফি দিতে পারবেন।

শেষকথা

উপরোক্ত আলোচনা থেকে, মৃত্যু নিবন্ধন করতে কি কি লাগে এবং মৃত্যু নিবন্ধন ফি কত টাকা, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারলেন। আশাকরি, এবার আপনি অনলাইনে বা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে মৃত্যু সনদের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *