জন্ম নিবন্ধন কি | জন্ম নিবন্ধন কি কি কাজে লাগে?
জন্ম নিবন্ধন বাংলাদেশের সকল বয়সী মানুষের জন্য একটি নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র। এই জন্ম নিবন্ধন কি ? এবং জন্ম নিবন্ধন কি কি কাজে লাগে ? সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন এখানে।

২০০৯ সালের পর থেকে বাংলাদেশের ১৬টি মৌলিক সেবা পেতে জন্ম সনদের প্রয়োজন হয়। মূলত ব্যক্তির বয়স প্রমাণের জন্য এবং পরিচবাচক তথ্য নিশ্চিত করার জন্যই জন্ম সনদ দেখাতে হয়।
সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি নানা কর্মকান্ডে জন্ম সনদের সত্যায়িত মুলকপি, ফটোকপি বা অনলাইন কপি ব্যবহার করা যায়। দেশের সেই ১ ১৬টি মৌলিক সেবা পেতে জন্ম নিবন্ধন ব্যবহার না করলে সরকারিভাবে আইনি জটিলতার সম্মুখীন হতে পারেন।
তাই বর্তমানে জন্ম নিবন্ধন কি কি কাজে লাগে এবং জন্ম নিবন্ধন না থাকলে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে সে সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এই লেখাটি আলোচনা করা হলো।
জন্ম নিবন্ধন কি?
জন্ম নিবন্ধন হলো একজন বাংলাদেশী নাগরিকের নাম, লিঙ্গ, জন্ম তারিখ ও জন্মস্থান, পিতা-মাতার নাম, পিতা-মাতার জাতীয়তা, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার তথ্য ইত্যাদি নির্ধারিত নিবন্ধক কর্তৃক রেজিস্টারে লেখা বা কম্পিউটারে এন্ট্রি প্রদান এবং জন্ম সনদ প্রদান করা।
আরও পড়ুনঃ অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করুন ২০২৪
বাংলাদেশের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ (২০০৪ সনের ২৯ নং আইন) এর আওতায় জন্ম নিবন্ধনের সংজ্ঞা অনুযায়ীই উপরোক্ত সংজ্ঞাটি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্ত বয়স্ক পর্যন্ত প্রায় সকলেরই জন্ম নিবন্ধন থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সনদ না থাকলে অনেক সরকারি ও বেসরকারি সুবিধা পাওয়া কঠিন হয়।
বাংলাদেশে বর্তমানে শিশুর জন্ম গ্রহণের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। তবে ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন করতে না পারলেও পরবর্তীতে জন সনদ করা যাবে। যাইহোক, যেহেতু এটি রাষ্ট্রীয়ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সনদ, তাই যত দ্রুত সম্ভব নিবন্ধন করে নেওয়া উচিত।
কেন জন্ম নিবন্ধন করতে হবে?
বাংলাদেশের জন্ম নিবন্ধন হলো একজন নাগরিকের প্রাথমিক পরিচয়পত্র। এর মাধ্যমেই একজন শিশু বাংলাদেশের নাগরিকত্বের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি/ মর্যাদা পেয়ে থাকে। জন্ম নিবন্ধন একটি শিশুর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং পারিবারিক সুযোগ-সুবিধা পেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ভোটার আইডি কার্ড তৈরির আগে পর্যন্ত এই সনদটি ব্যক্তির যাবতীয় পরিচয়বাচক তথ্য নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা যায়। কিন্তু জন্ম নিবন্ধন সনদ না থাকলে একজন ব্যক্তি বা শিশুকে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়। তাই প্রত্যেকেরই ডিজিটাল বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন রেজিস্টার করে নেওয়া উচিত।
আরও পড়ুনঃ জন্ম নিবন্ধন ইংরেজি করার নিয়ম ২০২৪
জন্ম নিবন্ধন কি কি কাজে লাগে?
বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইটে জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্য হিসেবে উল্লেখিত রয়েছে যে- ২০০৯ সাল থেকে ১৬টি মৌলিক সেবা পেতে জন্ম সনদের প্রয়োজন হয়। এই ১৬ প্রকার সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে জন্ম সনদ থাকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ।
জন্ম নিবন্ধন কি কি কাজে লাগে, তার তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো:
- প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভর্তি হতে।
- ভোটার আইডি কার্ড পেতে।
- ভোটার তালিকা ইস্যু করতে।
- পাসপোর্ট ইস্যু।
- ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু।
- গ্যাস, পানি, টেলিফোন ও বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে চাইলে।
- বিবাহ নিবন্ধন করতে।
- সরকারী, স্বায়ত্বশাসিত, বা বেসরকারী কোন সংস্থায় নিয়োগ পেতে।
- ব্যাংক একাউন্ট খুলতে।
- জমি রেজিষ্ট্রেশন করতে।
- ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা TIN Certificate পেতে।
- ট্রেড লাইসেন্স পেতে।
- গাড়ির রেজিষ্ট্রেশন করতে বা লাইসেন্স পেতে।
- ঠিকাদারী লাইসেন্স পেতে।
- আমদানি ও রপ্তানী (Import & Export) ব্যবসার লাইসেন্স পেতে।
- বাড়ির নক্সা অনুমোদন পেতে।
উপরোক্ত সকল কার্যক্রমে আবেদনকারী ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন থাকা প্রায় বাধ্যতামূলক। এ সকল কাজগুলো সম্পাদন করতে জন্ম নিবন্ধন সনদ লাগে।
আরও পড়ুনঃ মৃত্যু নিবন্ধন কি | মৃত্যু নিবন্ধন কি কি কাজে লাগে?
আরও পড়ুনঃ জন্ম নিবন্ধন হেল্পলাইন ও রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় ঠিকানা।
জন্ম নিবন্ধন না থাকলে যেসকল সমস্যায় পড়তে হয়
জন্ম নিবন্ধন না থাকলে নানারকম নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হয়। নিচে জন্ম নিবন্ধন না থাকার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সমস্যা তুলে ধরা হলো:
- প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভর্তির জন্য শিশুর পরিচয়বাচক তথ্য নিশ্চিত করতে জন্ম নিবন্ধন এর প্রয়োজন হয়। বর্তমানে জন্ম সনদের বাংলা ও ইংরেজি কপি ছাড়া এবং অনলাইন করার জন্ম সনদ ছাড়া ভর্তি গ্রহণযোগ্য হয় না।
- জন্ম সনদ ছাড়া একজন বাংলাদেশী নাগরিক ভোটার আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারে না।
- জন্ম নিবন্ধন ছাড়া পাসপোর্ট তৈরি করাও সম্ভব হয়না। কারণ বাংলাদেশে পাসপোর্ট তৈরি করতে হলে, আবেদনকারী ব্যক্তির NID Card বা জন্ম সনদের প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে জন্ম সনদ ছাড়া NID কার্ড করা যায় না, আবার পাসপোর্টের আবেদনও করা যায় না।
- বিবাহ নিবন্ধনের জন্য এনআইডি কার্ড বা জন্ম সনদের প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জন্ম নিবন্ধন করাতে হয়।
- সরকারী চাকরি বা স্বায়ত্তশাসিত চাকরির ক্ষেত্রে NID কার্ড বা জন্ম সনদের প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রেও প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জন্ম নিবন্ধন করাতে হয়।
- কোন ব্যক্তির সম্পত্তিক ক্রয় বিক্রয়ের ক্ষেত্রে, সম্পত্তি রেজিস্টার করার সময় দাতা/ গ্রহীতার জন্ম সনদ অথবা জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে জানা সনদ না থাকলে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
- কিশোর বয়সে কোন প্রকার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লে, তার বিচারকার্য শুরু করার আগে বা শাস্তি প্রদানের আগে বয়স নিশ্চিত করতে জন্ম সনদ প্রয়োজন হয়।
আরও পড়ুনঃ Birth Certificate জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড করুন।
আরও পড়ুনঃ জন্ম নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করার নিয়ম ২০২৪
এছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি নানা ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন না থাকলে সুবিধা বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
শেষকথা
উপরোক্ত আলোচনা থেকে জন্ম নিবন্ধন কি কি কাজে লাগে এবং জন্ম সনদ না থাকলে যে সকল সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন তার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারলেন। আশাকরি জন্ম সনদের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে খুব দ্রুতই শিশুর জন্ম সনদ তৈরি করে নিবেন, ধন্যবাদ।